এক ছিল বাতাস। সে ঘুরে বেড়াত ধুলোবালি আর চারপাশের নানা রকম গন্ধের কণা নিয়ে। একদিন সে এসে পৌঁছাল আমাদের নাকের দরজায়।
![]() |
| নাকের অবিশ্বাস্য এক যাত্রা |
প্রথমে সে প্রবেশ করল নাসারন্ধ্র (নাকের ছিদ্র) দিয়ে। সেখানে ছিল ছোট ছোট লোম, যা ছাঁকনীর মতো কাজ করে বাতাসের সব ধুলো-ময়লা আটকে দিল। এরপর বাতাস গেল নাকের ভেতরের নাসাল ক্যাভিটিতে (নাকের ভেতরের ফাঁপা অংশ), যেখানে ছিল বিশেষ শ্লেষ্মা ঝিল্লি বা মিউকাস মেমব্রেন। এটি বাতাসকে আরও পরিষ্কার করল, জীবাণু ধ্বংস করল এবং শরীরের তাপমাত্রা অনুযায়ী আর্দ্র করে তুলল।
নাকের ভেতরের রক্তনালিগুলোর স্পর্শে বাতাস এবার বেশ উষ্ণ হয়ে উঠল। এখন সে ফুসফুসে পৌঁছে দেহে অক্সিজেন সরবরাহ করার জন্য একদম প্রস্তুত!
আর বাতাসের সাথে যদি কোনো সুগন্ধি কণা থাকে, তবে তা নাকের ভেতরের ঘ্রাণগ্রাহী কোষে (অলফ্যাক্টরি নার্ভ) গিয়ে ধাক্কা দেয়। সেই কোষগুলো স্নায়ুর মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায়। তখনই আমরা হেসে উঠে বলি, "কী সুন্দর গন্ধ!"
এভাবেই প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে আমাদের নাক নীরবে কাজ করে যায়—আমাদের শ্বাস নিতে সাহায্য করে, চমৎকার সব গন্ধ চেনায় এবং আমাদের দেহকে সুরক্ষিত রাখে।

No comments:
Post a Comment