ঢাকার কাছেই মিশরের ছোঁয়া
ঢাকা থেকে খুব বেশি দূরে না যেতেই হঠাৎ করেই হাজির হওয়া যায় এক ব্যতিক্রমী জায়গায়—বাংলার পিরামিড। নাম শুনে প্রথমেই মনে হতে পারে মিসরের কথা, কিন্তু না। এটা একদম আমাদের দেশের, ঢাকার খুব কাছেই অবস্থিত একটি অনন্য পর্যটন কেন্দ্র।
গেট দিয়ে ঢুকতেই প্রথম যে অনুভূতিটা আসে, সেটা হলো জায়গাটা শুধু একটি পিরামিড নয়, বরং পুরো একটি পার্ক। চারপাশে গাছগাছালি, সুন্দর করে সাজানো হাঁটার পথ, বসার বেঞ্চ—একটা পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে সময় কাটানোর জন্য যা যা দরকার, সবই এখানে আছে। যারা ফটোগ্রাফি বা ফটোশুট পছন্দ করেন, তাদের জন্য জায়গাটা সত্যিই দারুণ।
এই পিরামিড এলাকাতেই সংরক্ষিত আছে রাজমনি ফিল্ম প্রোডাকশনের শুটিংয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন পুরনো সরঞ্জাম। এসব জিনিস দেখতে দেখতে মনে হয়, সিনেমার ইতিহাস যেন চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠছে। যারা বাংলা সিনেমার ভক্ত, তাদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে আলাদা অভিজ্ঞতা।
এরপর ঢোকার সুযোগ আছে একুরিয়ামে। ভেতরে ঢুকেই চোখে পড়ে নানা রঙের সুন্দর মাছ। আলো আর পানির মিশ্রণে মাছগুলো এতটাই আকর্ষণীয় লাগে যে, কিছুক্ষণের জন্য চারপাশের সবকিছু ভুলে যেতে হয়।
কিন্তু আসল অ্যাডভেঞ্চার শুরু হয় পিরামিডের ভেতরে ঢোকার পর। ভেতরে ঢুকতেই চারপাশ একেবারে অন্ধকারাচ্ছন্ন। আলো কম, পরিবেশ নিঃশব্দ—স্বাভাবিকভাবেই সবাই একটু চুপচাপ হয়ে যায়। সত্যি বলতে, হালকা একটা ভয়ও কাজ করে। নিচে কিছু জায়গায় পানি জমে ছিল, হাঁটতে গিয়ে মনে হচ্ছিল পানির ভেতরে যেন কিছু একটা নড়ছে।
ভেতরে এগোতে এগোতে দেখা মেলে রাজা-রাণীদের মমির। সাজানো আছে তাদের পোশাক, মহারাণীদের অলংকার, মনি-মুক্তা, এমনকি রাজা-রাণীদের খাবারের ব্যবহৃত আসবাবপত্রও। সবকিছু এত বাস্তবভাবে উপস্থাপন করা যে, এক মুহূর্তের জন্য মনে হয়—এই বুঝি কেউ চোখ খুলে তাকাবে।
পিরামিডের এই রহস্যময় অংশ পার হয়ে এরপর যাওয়া যায় পাখির জগতে। এখানে পাখি শুধু দেখা নয়, হাতে ধরার সুযোগও আছে। ভয় আর গম্ভীর পরিবেশের পর এই অংশটা যেন মনটা হালকা করে দেয়। ক্যামেরা আর পাখি সামলাতে সামলাতেই সময় কেটে যায়।
এরপর দেখা মেলে বেহুলার বাসর ঘরের। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য আর লোককথাকে খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এখানে। শেষ দিকে রয়েছে গ্রামের দৃশ্য—মাটির ঘর, চেনা পরিবেশ, যা আমাদের শিকড়ের কথাই মনে করিয়ে দেয়।
সব মিলিয়ে বাংলার পিরামিড এমন একটি জায়গা, যেখানে একসাথে পাওয়া যায় রহস্য, বিনোদন আর ইতিহাসের ছোঁয়া। ঢাকার এত কাছেই এমন ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে, সেটা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। পরিবার, বন্ধু বা একা—সব ধরনের ভ্রমণের জন্যই জায়গাটি বেশ উপযোগী।



No comments:
Post a Comment